ভারতের সংসদে অনলাইন জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে “প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব অনলাইন গেমিং বিল” পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাস হওয়া এই আইনে তাস খেলা, পোকার, ফ্যান্টাসি স্পোর্টসসহ সকল ধরনের অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ কোটি মানুষকে টার্গেট করে এসব গেমিং কোম্পানি প্রতিবছর প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিচ্ছিল।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ভারতের জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি ক্রিকেট অ্যাপ ড্রিম ১১-এর ওপর। ২০২৩ সালে তিন বছরের জন্য ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান স্পনসর হয়েছিল এই প্ল্যাটফর্ম। দলের জার্সিতেও তাদের লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নতুন আইন কার্যকর হলে এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
যদিও বিলটি এখনও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পায়নি, তবুও আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে। ড্রিম ১১ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই ক্যাশ গেম এবং প্রতিযোগিতা বন্ধ করেছে। তবে ব্যবহারকারীদেরকে অপেক্ষা করতে বলেছে।
বিসিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সচিব দেবজিত সাইকি বলেছেন, “যদি এটি আইনত অনুমোদিত না হয়, তাহলে আমরা কিছুই করব না। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির প্রতি আমরা অনুগত থাকব।”
সরকার জানিয়েছে, নতুন আইন মূলত অনলাইন জুয়ার আসক্তি, আর্থিক ক্ষতি এবং সামাজিক বিপর্যয় ঠেকাতে আনা হয়েছে। প্রতারক গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। নতুন আইন এই প্রবণতা রোধ করবে।
তবে গেমিং শিল্পে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ই-স্পোর্টস এবং শিক্ষামূলক অনলাইন গেমগুলোকে উৎসাহিত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, “এই আইন একদিকে ই-স্পোর্টসকে এগিয়ে নেবে, অন্যদিকে আমাদের সমাজকে অনলাইন টাকার খেলাগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে।”
সরকারের হিসাবে, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অনলাইন জুয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত। শুধু টাকা হারানো নয়, এ খাতকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, অর্থপাচার এমনকি সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটছে।