দেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কয়েক মাস নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্প্রতি আবারও লাগামহীন হয়ে উঠেছে দাম। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে প্রতিদিনই বাড়ছে পণ্যের মূল্য। তবে এ অস্থিরতার মধ্যেই মিলেছে বড় সুখবর—বাংলাদেশে আবারও চাল আমদানি শুরু হয়েছে ভারত থেকে।
চার মাসের বিরতির পর গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত থেকে শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে মোট ৯টি ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন মোটা চাল দেশে প্রবেশ করেছে। এতে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

আমদানিকারকদের দাবি, আরও কয়েকটি ট্রাক চাল বর্তমানে ভারতের পেট্রাপোলে অপেক্ষমাণ রয়েছে। দ্রুত ছাড়পত্র পেলে বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে। তবে উচ্চ শুল্কহার না কমানোয় আমদানির পরিমাণ সীমিত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সর্বশেষ চাল আমদানি হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন চালান আসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে।
অন্যদিকে, বেনাপোল উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র দ্রুত নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ছাড়পত্র প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছে। ফলে আরও কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে নতুন চালের সরবরাহ বাড়বে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর একাধিক প্রতিষ্ঠান এলসি খুলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন চালান প্রবেশ করছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৮৪ শতাংশ। গত বছর যেখানে মাত্র ২৫.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চাল আমদানি হয়েছিল, সেখানে এ বছর তা দাঁড়িয়েছে ৬৮২.৪ মিলিয়ন ডলারে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ভারত থেকে নতুন চাল আসার ফলে বাজারে কেজিপ্রতি চালের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।