বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে ৮৮ বার সময় বাড়ানো হলো। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত নতুন করে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এদিন মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি তা দাখিল করতে পারেনি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্রটি দেশের অভ্যন্তরে থাকা একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সহায়তায় এ অর্থ ফিলিপাইনসে পাচার করে বলে ধারণা করা হয়।
এরপর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলা করেন। মামলাটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।
চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফিলিপাইনের একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার নিখোঁজ রয়েছে।
অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করে। তবে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) মামলাটি খারিজের আবেদন করে। ২০২২ সালের এপ্রিলে আদালত রায় দিয়ে জানায়, মামলাটি বিচারের এখতিয়ার তাদের নেই। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক এখতিয়ারভুক্ত আদালতে নতুন মামলা দায়ের করে।
তবে দেশের অভ্যন্তরে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব হওয়ায় ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।