দেশের তৈরি পোশাক খাত (RMG sector) মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছে সংকটাপন্ন পাঁচটি ব্যাংকের কারণে। এসব ব্যাংকে তীব্র তারল্য সংকট তৈরি হওয়ায় রপ্তানি আয় (প্রত্যাবসিত রপ্তানি মূল্য) সময়মতো রপ্তানিকারকদের দিতে পারছে না তারা।
একই সঙ্গে নতুন লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলার সামর্থ্যও হারাচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে এবং শ্রমিক বেতন-ভাতা প্রদানে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক করে এ সমস্যার কথা জানান বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। প্রতিনিধিদলে সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ফাহিমা আক্তার ও এবিএম সামছুদ্দিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, রপ্তানি আয় ব্যাংকগুলোতে জমা হলেও তীব্র তারল্য সংকটের কারণে রপ্তানিকারকরা সময়মতো তাদের অর্থ পাচ্ছেন না। এমনকি নতুন এলসি খোলার ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলো অক্ষম। এর ফলে অনেক পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থা কমে যাচ্ছে, যা দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের জন্য অশনি সংকেত।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বলেন, দ্রুত সমাধান না করলে অনেক কারখানা রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হবে, বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাবেন এবং দেশের রপ্তানি খাত ভয়াবহ সংকটে পড়বে।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, আপাতত ব্যাংকগুলো যাতে গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করতে পারে সে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হবে।