গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশের কল্যাণ ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তার মতে, গণতান্ত্রিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণফোরামের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, বিগত সরকার দলের দখলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু অশুভ শক্তি চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তার, সন্ত্রাস, সংঘর্ষ এবং মব সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করছে। তিনি সতর্ক করেছেন, সরকার যদি এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে ব্যর্থ হয়, তবে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক আলোচনায় ‘বয়ান’ ও ‘বন্দোবস্ত’-এর মতো দুর্নীতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা পদের জন্য ২০০ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিপুল সম্পদের খবর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেও সহিংসতা ঘটার বিষয়টি জবাবদিহিতার অভাব প্রকাশ করে।
জাহিদ হোসেন বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সরকারের, নির্বাচন কমিশন এবং সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। পাশাপাশি মুক্তভাবে মত প্রকাশের অধিকার রক্ষা করাও জরুরি। তিনি ড. ইউনূসকে সম্মান বজায় রেখে আরও শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। এতে আরও বক্তৃতা করেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, দলের উচ্চতর পরিষদ সদস্য সুরাইয়া খানম প্রমুখ।