বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ২৯ আগস্ট পালিত হয় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষাবিরোধী দিবস। ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবের মাধ্যমে দিনটিকে ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হলো—বিশ্ববাসীকে পরমাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ পৃথিবী উপহার দিতে পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা।
জাতিসংঘ এই দিনে বিশেষ ইভেন্ট আয়োজন করে, যেখানে পারমাণবিক পরীক্ষা ও এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা হয় ১৬ জুলাই ১৯৪৫ সালে নিউ মেক্সিকোতে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের তত্ত্বাবধানে ম্যানহাটন প্রকল্পের অংশ হিসেবে। এর পরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমা (৬ আগস্ট) এবং নাগাসাকিতে (৯ আগস্ট) পারমাণবিক বোমা হামলা চালায়, যেখানে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়। বিকিরণ-প্ররোচিত রোগ এখনো সেই প্রজন্মকে ভোগাচ্ছে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ইসরাইল পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রাখলেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
পারমাণবিক পরীক্ষা শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানি নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। বিকিরণের কারণে ক্যানসার, জেনেটিক মিউটেশন, শারীরিক বিকলাঙ্গতা এবং পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি দূষণ সৃষ্টি হয়। ভূপৃষ্ঠ, পানি ও উদ্ভিদে জমা হওয়া তেজস্ক্রিয়তা খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে মানুষের শরীরে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI) এবং ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (FAS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে ৯টি দেশের হাতে প্রায় ১২,২৪১টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে ৮৭%। বাকি ১৩% রয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরাইলের হাতে।
জাতিসংঘের ৬৪তম অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করাই মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার অন্যতম উপায়। অথচ বাস্তবতা হলো—বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো এখনো অস্ত্র মজুত বৃদ্ধি করছে। মানবজাতিকে রক্ষার স্বার্থে একসঙ্গে এগিয়ে এসে পারমাণবিক পরীক্ষা ও অস্ত্র মজুত নিষিদ্ধ করতে হবে।