মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Tesla ২০১৯ সালের একটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সম্পর্কিত রায় বাতিলের আবেদন করেছে ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে। ওই দুর্ঘটনায় এক পথচারী নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার (৩০ আগস্ট) নিউওয়ার্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালে Tesla Model S গাড়িকে কেন্দ্র করে। গাড়িটির চালক জর্জ ম্যাকগি তখন অটোপাইলট প্রযুক্তি ব্যবহার করছিলেন। তবে চালক মোবাইল ফোনে মনোযোগ দেওয়ায় গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকা একটি এসইউভি এবং পাশে থাকা দুই পথচারীকে ধাক্কা দেয়। এতে ২২ বছর বয়সী নাইবেল বেনাভিদেস লিওন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং তার বন্ধু ডিলন অ্যাঙ্গুলো গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর জুরির রায়ে Teslaকে আংশিকভাবে দায়ী করা হয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিপুল অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাদীপক্ষ দাবি করে, টেসলার অটোপাইলট সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে। তবে টেসলার দাবি, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল চালক, প্রযুক্তি নয়।
সম্প্রতি Tesla আদালতে রায় বাতিল বা নতুন করে বিচার শুরুর আবেদন করে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, “২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বেপরোয়া চালকের ভুলের দায় নিতে পারে না।”
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, অটোপাইলট সিস্টেম চালককে সতর্ক করেনি, ব্রেক কষেনি এবং প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের বিভিন্ন বক্তব্য ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে। টেসলার পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয় যে, বাদীপক্ষ জুরিদের সামনে পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেছে এবং মামলায় গুরুতর অবহেলার প্রমাণ দেখানো হয়নি।
এটি ছিল অটোপাইলট প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার বিচার। তবে এর আগে ২০১৮ ও ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি মামলায় টেসলা দায়মুক্তি পেয়েছিল। বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্রেট শ্রেইবার বলেন, “এটি টেসলা ও ইলন মাস্কের মানবিক ক্ষতির প্রতি উদাসীনতার আরেকটি প্রমাণ।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আদালত আগের রায় বহাল রাখবে।