পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এবং শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড একীভূত হচ্ছে। ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একীভূতকরণের জন্য একটি পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই দিনে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ৪৬তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ এমওইউ অনুমোদিত হয়েছে।
একীভূতকরণের ফলে ওয়ালটন হাই-টেকের প্রোডাক্ট লাইন আরও বিস্তৃত হবে। নতুন পণ্যসমূহের মধ্যে থাকবে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি) এবং ইলেকট্রিক বাইক। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নতুন লিথিয়াম ব্যাটারি কারখানা স্থাপন করবে এবং পরিবেশবান্ধব ই-বাইক উৎপাদনে মনোযোগ দেবে।
ওয়ালটন ডিজি-টেক ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের একমাত্র মোবাইল ফোন ও পিসিবি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ৩০ জুন ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরে ওয়ালটন ডিজি-টেকের পেইড আপ ক্যাপিটাল ছিল ৩০ কোটি টাকা, নিট রেভিনিউ ১০১৫.৯ কোটি টাকা এবং কর পরবর্তী মুনাফা ১৮.১ কোটি টাকা।
অপরদিকে, ওয়ালটন হাই-টেকের পেইড আপ ক্যাপিটাল ছিল ৩০২.৯ কোটি টাকা, নিট রেভিনিউ ৭৫১.২ কোটি টাকা এবং কর পরবর্তী মুনাফা ১৩৫৫.৬ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন ও রপ্তানি করছে।
ওয়ালটন হাই-টেকের চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার মো. জিয়াউল আলম বলেন, “ডিজি-টেকের সঙ্গে একীভূত হলে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ঘটবে এবং বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি লাভবান হবেন। নতুন পণ্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বাজারেও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।”
ওয়ালটন ডিজি-টেকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, “ওয়ালটন হাই-টেকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ফলে ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং কোম্পানির পুঁজিবাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।”
একীভূতকরণের ফলে দেশীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার নতুন বাজারেও সম্প্রসারণ ঘটবে। ওয়ালটন ব্র্যান্ডের প্রযুক্তিপণ্য উচ্চ গুণগতমান, টেকসই, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।