জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীত জগতে তার স্বতন্ত্র কণ্ঠের জন্য পরিচিত। ২০০৬ সালে ‘হৃদয়ের কথা’ চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক দিয়ে তার সঙ্গীত জীবন শুরু হয়। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার প্রথম অ্যালবাম ‘ভালোবাসা অধরা’ শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ২০১১ সালে ‘প্রজাপতি’ চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
তবে ন্যান্সি শুধুমাত্র সাফল্যের পথে এগিয়েছেন তা নয়; তিনি বিভিন্ন সময় পেশাগত ও রাজনৈতিক কারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ন্যান্সি খুলে বলেছেন, তিনি সময়ের এক পর্যায়ে “কালো তালিকাভুক্ত” ছিলেন এবং পেশাগত কাজ করতে বাধা পেতেন। তিনি বলেন, “২০১৩ সালের শেষ এবং ২০১৪ সাল থেকে আমার জীবনে একের পর এক ‘অ্যাটম বোমা’ ফেস করতে হয়েছে। আমি যে ধরনের গান করি, তা ওপেন এয়ার কনসার্টের জন্য উপযুক্ত নয়। কর্পোরেট শো এবং টেলিভিশনই আমার কাজের মূল স্থান। কিন্তু এসব অনুষ্ঠানে আমাকে প্রায়শই নিষিদ্ধ করা হত।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনুষ্ঠানগুলোতে নাম পাঠানো হলে তার নাম থাকলেই বাদ পড়ত। “অনেক সময় আয়োজকরাই ঝামেলা এড়াতে আমাকে নিতেন না। প্রথম দুই-তিন বছর ডিপ্রেশনের চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। আমাকে ওষুধও খেতে হত, যা অনেকে ভুলবশত আত্মহত্যার চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।”
ন্যান্সি প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি সাধারণ মানুষ নয় এবং শোবিজে তার পরিচিতি ও প্রভাব বড়। তিনি বলেন, “২০১৪ সালে আমার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে ব্যাপক হইচই শুরু হয়। তখন অনুভব করলাম, আমি হয়ত সাধারণ কেউ নই। আমার একটি স্ট্যাটাসকে এত গুরুত্ব দেওয়া হল।”
ন্যান্সি জানান, সে স্ট্যাটাসটি মূলত বিগত সরকারের বিরোধী একটি পোস্ট ছিল। তিনি কেবল তার মতামত প্রকাশ করেছিলেন এবং নির্বাচনের পূর্বে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।
আজও ন্যান্সি শিল্পী ও জনগণকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত সৃজনশীল পরিবেশের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।