ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া বাইরু ৩ সেপ্টেম্বর ফরাসি চ্যানেল বিএফএম টিভি-র জনপ্রিয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ফেস এ ফেস-এ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা সহায়তা (AME) সীমিত করা হবে। এই সিদ্ধান্ত ফ্রান্সে বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে অনাস্থা ভোটের আগে, যা সরকারের স্বাস্থ্য নীতি ও ব্যয় সীমার সঙ্গে যুক্ত। সরকারি খসড়ার আলোকে, AME থেকে বালনেওথেরাপি-ভিত্তিক পুনর্বাসন চিকিৎসা বাদ দেওয়া, অ-জরুরি চিকিৎসায় অপেক্ষার সময় বৃদ্ধি এবং আর্থিক যোগ্যতা যাচাই কঠোর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, ফরাসি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশিদেরও সীমিত রিসোর্সের ভাগী হতে হবে।
তবে, মানবিক সংগঠনগুলো সরকারের এই পদক্ষেপকে সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এতে অনিয়মিত অভিবাসীরা ‘বিলাসী সুবিধাভোগী’ হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত হবেন। চিকিৎসক সংগঠনও সতর্ক করেছেন যে, সুবিধা সীমিত হলে অভিবাসীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেরিতে পাবেন, যার ফলে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ ফরাসি জনগণও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
AME খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয় প্রায় ১.১–১.২ বিলিয়ন ইউরো, যা ফরাসি স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ০.৫ শতাংশ। সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম। নতুন আইনে সুবিধা সীমিত হলে, দীর্ঘদিন ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে, যা তাদের জীবনের উপর বড় প্রভাব ফেলবে।