থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টে ভুমজাইথাই পার্টির নেতা আনুতিন চার্নভিরাকুল দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ৫৮ বছর বয়সী আনুতিন, যিনি একসময় রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন, এবার পার্লামেন্টের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
রাজনীতিতে রক্ষণশীল পরিচিতি যুক্ত আনুতিন চার্নভিরাকুল একসময় ২০২২ সালে থাইল্যান্ডে গাঁজা বৈধ করার পক্ষে ছিলেন। তার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে। তবে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব স্বল্পস্থায়ী হতে পারে, কারণ বিরোধী দল পিপলস পার্টি তাকে সমর্থন দিয়েছে শর্তসাপেক্ষে, যা অনুযায়ী চার মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং টেলিকম বিলিওনিয়ার থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে, দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। আনুতিন চার্নভিরাকুলও একটি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক রাজবংশের উত্তরসূরি; তার বাবা ২০০৮ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তিন বছর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আনুতিনের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান সিনো-থাই ইঞ্জিনিয়ারিং দীর্ঘ দশক ধরে সরকারি চুক্তি পেয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দর ও পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত। নিউ ইয়র্কে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনুতিন ত্রিশ বছর বয়সে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
‘নূ’ ডাকনামে পরিচিত আনুতিনের ব্যক্তিগত জীবনও সাধারণ মানুষের মতো: তিনি থাই স্ট্রিট ফুডের প্রতি অনুরাগী, সামাজিক মাধ্যমে রান্না, স্যাক্সোফোন বা পিয়ানোতে ১৯৮০’র দশকের থাই পপ গান পরিবেশন করতে দেখা যায়। ২০০৭ সালে ‘থাই রাক থাই’ দলের ভাঙনের পর পাঁচ বছরের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন।
নিষিদ্ধকালের অবসরে আনুতিন ছোট ব্যক্তিগত বিমান তৈরি করেন, যা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিতরণে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি ভুমজাইথাই দলের নেতা হিসেবে রাজনীতিতে ফিরেছেন এবং ২০২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের সেরা ফল হিসেবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে কোভিড-১৯ মহামারী পরিচালনায় আনুতিন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন, যদিও তার সমালোচনা ও বিতর্কও কম হয়নি। তিনি সামরিক-নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে থাইল্যান্ডের পর্যটন-নির্ভর ব্যবস্থা পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গাঁজা বৈধ করার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়েন।
বর্তমানে আনুতিনকে রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে হবে, কারণ বিভিন্ন জোট এবং বিরোধী দলের চাপ তার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।