পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (NSU) ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জমি কেনাবেচায় ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, সিটিং অ্যালাউন্স আত্মসাৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল অঙ্কের তহবিল সাউথইস্ট ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রাখার মতো নানা অনিয়মের অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের সদস্যরা হলেন দুদকের উপপরিচালক আজিজুল হক, সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুসা জেবিন এবং সহকারী পরিচালক আল-আমিন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকার সময় এম এ কাসেম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের নামে জমি কেনাকাটায় ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকারও বেশি অর্থ হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, কম দামের জমি বেশি মূল্যে ক্রয় দেখানো, ডেভেলপারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়া, ছাত্রদের টিউশন ফির অর্থে ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি রেঞ্জ রোভার ও একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনা, গাড়ির চালকদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানির খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে বহন করার মতো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে—বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অমান্য করে ৮টি কমিটির জায়গায় ২৫টি কমিটি গঠন করে অতিরিক্ত সিটিং অ্যালাউন্স আদায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ৪০৮ কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর রাখা এবং পূর্বাচল সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ২৫০ বিঘা জমি কিনে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা।
২০১৪ সালে আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভলপার্স লিমিটেডের কাছ থেকে ৮০ কোটি টাকার জমি ৫০০ কোটি টাকা দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নিচু জমি ভরাটের নামে আরও ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা লোপাট করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতসব অভিযোগের পরও দীর্ঘদিন এম এ কাসেম ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তবে দুদক জানিয়েছে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এখন তাদের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। তবে অভিযুক্ত এম এ কাসেমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।