বাংলাদেশে মানসিক রোগীদের জন্য একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসালয় হলো পাবনা মানসিক হাসপাতাল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই হাসপাতালের চিত্র রোগীদের জন্য মানবিক নয়, বরং কারাগারের মতো। সমাজে এখনও মানসিক রোগীদের ‘পাগল’ বলে উপহাস করা হয়, আর হাসপাতালটিকে ‘পাগলাগারদ’ নামে ডাকা হয়। অথচ এটি একটি চিকিৎসাকেন্দ্র, কারাগার নয়। তবুও রোগীরা এখানে বন্দিজীবনের মতো জীবনযাপন করছেন।
সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হাসপাতালটি বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে। আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই, নষ্ট হয়ে আছে বহু চিকিৎসা সরঞ্জাম। হাসপাতালের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, রয়েছে জনবল সংকট, এমনকি রোগী পরিবহনের জন্য যথেষ্ট যানবাহনও নেই। ফলে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
শুধু হাসপাতালেই নয়, মানসিক রোগীরা অবহেলিত হন নিজ পরিবার ও সমাজের কাছেও। অনেক স্বজন মানসিক রোগীর পরিচয় গোপন রাখেন, এমনকি যেসব রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন, তাদের যথাযথ যত্নও নেন না। অথচ সুস্থ হওয়ার পরও মানসিক রোগীদের পরিচর্যা জরুরি, যাতে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
অভিযোগ আছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা খারাপ হলেও স্বজনরা সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যান না। দৈনন্দিন থাকা-খাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা অবহেলার শিকার হন। অন্যদিকে সমাজও তাদের ভিন্ন চোখে দেখে, ফলে সুস্থ হয়েও আবার হতাশায় ভুগে মানসিক ভারসাম্য হারান অনেকে। এতে করে তারা আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানসিক রোগীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি। তাদের উপহাস নয়, বরং সহমর্মিতা ও সহানুভূতি দেখাতে হবে। মনে রাখা উচিত, যে কেউ মানসিক ভারসাম্য হারাতে পারেন, আর সে ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা-পরবর্তী যত্ন পাওয়া তাদের অধিকার। রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবার—সবার সম্মিলিত উদ্যোগে মানসিক রোগীদের জন্য সহনশীল ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।