শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

পাবনা মানসিক হাসপাতাল: অবহেলা আর সংকটে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন রোগীরা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২২২ পড়া হয়েছে
পাবনা মানসিক হাসপাতাল: অবহেলা আর সংকটে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন রোগীরা

পাবনা মানসিক হাসপাতাল: অবহেলা আর সংকটে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন রোগীরা

বাংলাদেশে মানসিক রোগীদের জন্য একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসালয় হলো পাবনা মানসিক হাসপাতাল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই হাসপাতালের চিত্র রোগীদের জন্য মানবিক নয়, বরং কারাগারের মতো। সমাজে এখনও মানসিক রোগীদের ‘পাগল’ বলে উপহাস করা হয়, আর হাসপাতালটিকে ‘পাগলাগারদ’ নামে ডাকা হয়। অথচ এটি একটি চিকিৎসাকেন্দ্র, কারাগার নয়। তবুও রোগীরা এখানে বন্দিজীবনের মতো জীবনযাপন করছেন।

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হাসপাতালটি বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে। আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই, নষ্ট হয়ে আছে বহু চিকিৎসা সরঞ্জাম। হাসপাতালের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, রয়েছে জনবল সংকট, এমনকি রোগী পরিবহনের জন্য যথেষ্ট যানবাহনও নেই। ফলে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

শুধু হাসপাতালেই নয়, মানসিক রোগীরা অবহেলিত হন নিজ পরিবার ও সমাজের কাছেও। অনেক স্বজন মানসিক রোগীর পরিচয় গোপন রাখেন, এমনকি যেসব রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন, তাদের যথাযথ যত্নও নেন না। অথচ সুস্থ হওয়ার পরও মানসিক রোগীদের পরিচর্যা জরুরি, যাতে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

অভিযোগ আছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা খারাপ হলেও স্বজনরা সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যান না। দৈনন্দিন থাকা-খাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা অবহেলার শিকার হন। অন্যদিকে সমাজও তাদের ভিন্ন চোখে দেখে, ফলে সুস্থ হয়েও আবার হতাশায় ভুগে মানসিক ভারসাম্য হারান অনেকে। এতে করে তারা আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানসিক রোগীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি। তাদের উপহাস নয়, বরং সহমর্মিতা ও সহানুভূতি দেখাতে হবে। মনে রাখা উচিত, যে কেউ মানসিক ভারসাম্য হারাতে পারেন, আর সে ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা-পরবর্তী যত্ন পাওয়া তাদের অধিকার। রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবার—সবার সম্মিলিত উদ্যোগে মানসিক রোগীদের জন্য সহনশীল ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024