বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে পরিচালিত ইপিজেডগুলোতে কর্মরত তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবার এবং স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতায় আক্রান্ত শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে বেপজা।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর সহায়তায় এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) নামে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আইএলওকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড, আর অর্থায়নে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির বেপজা কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডে কর্মরত অবস্থায় নিহত দুই শ্রমিকের পরিবার এবং কুমিল্লা ইপিজেডে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় অক্ষম হয়ে পড়া একজন শ্রমিককে পেনশনভিত্তিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিকের সর্বশেষ মাসিক বেতনের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ এবং আহতদের ক্ষেত্রে শারীরিক অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই সুবিধা পেনশন কাঠামোয় নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলবে।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, “শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকারের বিষয়। শুধু বিনিয়োগ নয়, শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরি করতেও বেপজা শুরু থেকেই কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের বেতন দ্রুত পরিশোধে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর (নিযুক্ত) ম্যাক্স টুনন, জিআইজেড প্রতিনিধি ড. মাইকেল ক্লোড, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির হোসেন খানসহ বেপজার বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে দেশে বেপজার অধীনে ৮টি ইপিজেড এবং চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। পাশাপাশি পটুয়াখালী ও যশোরে আরও দুটি নতুন ইপিজেড নির্মাণ কাজ চলছে। বেপজাধীন ৯টি জোন দেশের মোট রপ্তানিতে গত অর্থবছরে ১৭ দশমিক ০৩ শতাংশ অবদান রেখেছে।