রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া ‘জাপাদ-২০২৫’-এ বাংলাদেশ, ভারত, ইরানসহ মোট আটটি দেশ অংশ নিয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই মহড়া শুধু শক্তি প্রদর্শনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবেরও ইঙ্গিত বহন করে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, কুমাউন রেজিমেন্টের ৬৫ জন সেনা সদস্য মহড়ায় অংশ নিয়েছেন। ভারতের অংশগ্রহণ এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্কসংক্রান্ত বাণিজ্যিক উত্তেজনা চলছে।
এই মহড়ায় প্রায় এক লাখ সৈন্য অংশ নেয়। পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত প্রতিরক্ষা কৌশল প্রদর্শন করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল আক্রমণ পরিস্থিতিতে রাশিয়া-বেলারুশের যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন।
তবে ভারত একমাত্র বিদেশি অংশগ্রহণকারী ছিল না। মহড়ায় বাংলাদেশ, ইরান, বুরকিনা ফাসো, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মালিও যোগ দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের এই অংশগ্রহণ রাশিয়ার সঙ্গে আস্থা বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় আমদানির ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেন, অভিযোগ করে যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে সহায়তা করছে। তবে ট্রাম্প পরবর্তীতে জানিয়ে দেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও জবাবে বলেন, “ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সীমাহীন সম্ভাবনার অংশীদার।”
ইরানও মহড়ায় অংশ নেয়, যদিও সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান-রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে শাহীদ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে ইরান। দুই দেশ সম্প্রতি একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিও করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও এই মহড়ায় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিল। ওয়াশিংটন চাইছে, এই সুযোগে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়িয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্ত করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জাপাদ-২০২৫ মহড়া রাশিয়া-বেলারুশ জোটের সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং বহুমুখী কূটনৈতিক বার্তা পাঠানোর একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।