কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আগামী দুই দশকের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যকে আমূল রূপান্তর করবে বলে ধারণা করছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডাব্লিউটিও)। সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে বাণিজ্য খরচ কমবে, উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং বৈশ্বিক বাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্য প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ডাব্লিউটিও মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়ালা বলেন, “এআই ইতোমধ্যেই আমাদের অর্থনীতি ও সমাজকে পুনর্গঠন করছে। এটি উৎপাদন, ব্যবহার ও বাণিজ্যের ধরণ পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।”
বাণিজ্যে এআই-এর ভূমিকা: খরচ কমানো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব: বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জিডিপি ১২–১৩% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ব্যবসায়িক খাতের প্রতিক্রিয়া: এআই ব্যবহারকারী প্রায় ৯০% প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ম মেনে চলায় বেশি দক্ষতা অর্জন করেছে।
অর্থনৈতিক বৈষম্য: উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে দ্বি-অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হলেও নিম্ন আয়ের অর্থনীতি মাত্র ৮% প্রবৃদ্ধি পাবে। তবে ডিজিটাল বিভাজন কমানো গেলে তাদের প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ হয়ে ১৫% পর্যন্ত হতে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্যে এআই-সক্ষম পণ্য: সেমিকন্ডাক্টর, কাঁচামাল ও অন্যান্য ইনপুট ২০২৩ সালে ২.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে শুধু প্রযুক্তি নয়, ডিজিটাল অবকাঠামো, শিক্ষা, জ্বালানি এবং সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রেও সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে। ডাব্লিউটিও মনে করছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এআই-চালিত অর্থনীতির পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না।