বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। সনাক্ত হওয়ার পরও অধিকাংশ রোগীই কার্যকরভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না।
কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বিতরণ করা হলেও টেকসই অর্থায়নের অভাব, সরবরাহ ঘাটতি এবং অন্যান্য সমস্যা থেকে রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞরা প্রান্তিক পর্যায়ের সকল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
বুধবার অনলাইনে আয়োজিত “বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালাটি আয়োজন করে। এতে রংপুর বিভাগের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের ৩৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের একটি প্রতিবেদনে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পর্যায়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বিনামূল্যে প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।
উচ্চ রক্তচাপ দেশের মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণে অন্যতম। বক্তারা কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং অসংক্রামক রোগ খাতে বাজেট বৃদ্ধি জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন জিএইচএআই বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, এবং বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা দেন প্রজ্ঞার পরিচালক মো. শাহেদুল আলম ও কোঅর্ডিনেটর সাদিয়া গালিবা প্রভা।