টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে নতুন বিতর্কে কেঁপে উঠেছে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি। বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট নিয়ে তার দেওয়া আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বিরোধ দেখা দিয়েছে। ফলে ফের চাপের মুখে পড়তে পারেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ব্রিটিশ দৈনিক এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঢাকা থেকে প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিকের নামে একটি পাসপোর্ট ইস্যু হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর। এছাড়া, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে তার নামে জাতীয় পরিচয়পত্রও ইস্যু করা হয়েছিল। এসব নথির কপি যৌথভাবে অনুসন্ধান করেছে দ্য টাইমস ও বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিক।
৪৩ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ এমপি চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুর্নীতি প্রতিরোধ মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হতে চান না।’ তবে নতুন তথ্য তার আগের বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ঢাকায় অবৈধভাবে জমি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এটিকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে অভিহিত করেছে। নথি অনুযায়ী, টিউলিপ ২০১১ সালে ঢাকার আগারগাঁও অফিসে পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। এমনকি নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেসেও তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে তার খালার বাসা উল্লেখ আছে।
অন্যদিকে, টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবীরা এই পুরো ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা’ বলে দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, উপস্থাপিত নথি জাল এবং এটি তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি অপচেষ্টা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে টিউলিপ বলেছিলেন— “আমি ব্রিটিশ এমপি, আমি বাংলাদেশি নই।” তবে নাগরিকত্ব আইনে তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখার অধিকারী।
বর্তমানে টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি খালার প্রভাব খাটিয়ে তার মা, ভাই ও বোনের জন্য বাংলাদেশে জমি নিশ্চিত করেছিলেন। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এগুলো নিছক ‘নিপীড়ন ও প্রহসন’।