সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানিতে বড় ধরনের ভ্যাট ছাড় দিয়েছে সরকার। তবে এই সুবিধা পেতে হলে আমদানিকারকদের বেশ কিছু কঠোর শর্ত মানতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ৫ হাজার ডিডব্লিউটি বা তার বেশি ধারণক্ষমতার সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানিতে ভ্যাট মওকুফ থাকবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে আমদানির সময় প্রযোজ্য পুরো ভ্যাট আদায় করা হবে।
আমদানিকৃত জাহাজকে বাংলাদেশের পতাকাবাহী হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশনগুলো মেনে চলতে হবে।
জাহাজের বয়স ২৫ বছরের বেশি হতে পারবে না।
আমদানির পর অন্তত ৩ বছর বাংলাদেশের পতাকায় চলতে হবে। এর আগে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না।
বিশেষ পরিস্থিতি (মন্দা, দুর্ঘটনা, দৈব দুর্বিপাক) ছাড়া বিক্রি সম্ভব নয়। বিক্রির ক্ষেত্রে এনবিআরের অনুমোদন ও ভ্যাট-শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
জাহাজের সব আয়-ব্যয় দেশের ব্যাংকের ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
বছরে একবার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রমাণপত্র ভ্যাট কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
তেলবাহী ট্যাংকার আমদানির ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষায় ডাবল হাল বা ডাবল বটমবিশিষ্ট জাহাজ আনতে হবে।
জাহাজে কর্মরত জনবলের অন্তত ৭০ শতাংশ বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
আবেদন করার সময় জাহাজের ধারণক্ষমতা, তৈরির দেশ ও সাল উল্লেখ করে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।
এনবিআর যেকোনও সময় শর্ত যাচাই করতে পারবে।
এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ১৩ জুন জারি করা আগের সাধারণ আদেশটি বাতিল করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন।