চলতি মাস সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ১৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ২১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এ অঙ্ক গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬১ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এ বছর আগের বছরের তুলনায় ২৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের ২০ দিন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছর একই সময়ে এসেছিল ৫৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এ বছর ১০৫ কোটি ১০ লাখ ডলার বেশি এসেছে, যা প্রবৃদ্ধি হিসেবে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।
জুলাই ২০২৫ → ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০,২৩৯ কোটি টাকা)
আগস্ট ২০২৫ → ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৯,৫৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা)
সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিন → ১৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলার (২৩,২১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা)
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল বছরের রেকর্ড।
পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬.৮% বেশি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার।
জুলাই: ১৯১.৩৭ কোটি ডলার
আগস্ট: ২২২.১৩ কোটি ডলার
সেপ্টেম্বর: ২৪০.৪১ কোটি ডলার
অক্টোবর: ২৩৯.৫০ কোটি ডলার
নভেম্বর: ২২০ কোটি ডলার
ডিসেম্বর: ২৬৪ কোটি ডলার
জানুয়ারি: ২১৯ কোটি ডলার
ফেব্রুয়ারি: ২৫৩ কোটি ডলার
মার্চ: ৩২৯ কোটি ডলার (সর্বোচ্চ)
এপ্রিল: ২৭৫ কোটি ডলার
মে: ২৯৭ কোটি ডলার
জুন: ২৮২ কোটি ডলার
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা ও হুন্ডি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।