মার্কিন বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং-এর শেয়ারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এ খবর আসে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) কর্তৃক কোম্পানির ৭৩৭ ম্যাক্স ও ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা শিথিল করার পর।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ মাসের কঠোর নজরদারি ও মূল্যায়নের পর এফএএ বোয়িংকে আবার কিছু বিমানের নিরাপত্তা সনদ দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। একসময় এই ক্ষমতা বোয়িংয়ের ছিল, তবে ২০১৯ সালের লায়ন এয়ার দুর্ঘটনা ও ২০২২ সালের ইথিওপিয়ান এয়ার দুর্ঘটনার কারণে বোয়িংকে নিরাপত্তা অনুমোদন দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
জানুয়ারি ২০২৪-এ ৭৩৭ ম্যাক্সের একটি দরজার প্লাগ ভেঙে যাওয়ার পর সরকারি তদন্তে ত্রুটিগুলো প্রকাশিত হয়, ফলে বোয়িংকে তাদের বিমান ২০ মাসের জন্য স্থগিত রাখতে হয়। এর ফলে ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
এফএএ এখন প্রতি দুই সপ্তাহে একবার বোয়িংকে বিমান ওড়ার উপযুক্ততা সনদ দিতে দেবে। অন্য সময় সংস্থা নিজেই সনদ দেবে। এফএএ নিশ্চিত করেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পুরো ক্ষমতা বোয়িংয়ের হাতে হস্তান্তর করা হবে না।
বোয়িং সম্প্রতি টার্কিশ এয়ারলাইনস, নরওয়েজিয়ান গ্রুপ, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান থেকে নতুন বিমান সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশও বোয়িং থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিক্রি ও এফএএর সনদ পুনর্বহালের পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বোয়িং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হচ্ছে, যদিও আগের দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ এখনও বিবেচনার বিষয়।