সম্প্রতি বিবিসি, সিএনএন, এবিসি, রয়টার্সসহ বিশ্বের শীর্ষ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক অনন্য দৃশ্য। ভাদিম মখোরভ নামের এক রুশ ট্রাভেল ব্লগারের ড্রোনে ধরা পড়ে বিস্ময়কর সেই মুহূর্ত। রাশিয়ার কোলিউচিন দ্বীপে অবস্থিত এক পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছে কয়েকটি শ্বেতভল্লুক বা পোলার বিয়ার। শুধু তাই নয়, দেখা যায়, তারা সেখানেই বসবাস করছে।
এই ভবনটি একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের গবেষণা কেন্দ্র ছিল। তখন হয়তো ভবনের নিরাপত্তা রক্ষায় পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারও তারা কুণ্ঠিত হতো না। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর গবেষণা কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত হয়, আর আজ তা শ্বেতভল্লুকদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
এ দৃশ্য শুধু বিস্ময়কর নয়, গভীর শিক্ষারও বার্তা দেয়। পৃথিবীর প্রতিটি জৌলুস, প্রতিটি শক্তি একসময় ম্লান হয়ে যায়। যেমন—বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশে আজও ছড়িয়ে আছে জমিদার বাড়ি, প্রাসাদ বা অট্টালিকা। যেগুলো একসময় ছিলো প্রভাব-প্রতিপত্তির প্রতীক, আজ সেগুলো ভাঙাচোরা, অযত্নে পড়ে আছে। কোথাও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে পরিণত হয়েছে ছাগল-গরুর বিশ্রামস্থলে, কোথাও ভগ্নপ্রায় প্রাসাদে বসবাস করছে হতদরিদ্র প্রজন্ম।
এই ঘটনাই শেখায়—সব কিছুরই শেষ আছে। ক্ষমতা, ধনসম্পদ কিংবা জৌলুস কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। অথচ মানুষ তা মানতে চায় না। উন্নয়নশীল দেশের শাসকরা প্রায়ই ভেবে বসেন, তাদের ক্ষমতার আসন অটল। কিন্তু ইতিহাস বলছে, কেউই স্থায়ী নয়।
দর্শনবিদ আর্থার শপেনহাওয়ার যেমন বলেছিলেন—“Change alone is eternal, perpetual, immortal।” পরিবর্তনই একমাত্র চিরস্থায়ী। সেই শিক্ষা থেকেই আমাদের বোঝা উচিত, যেকোনো অবস্থান ক্ষণস্থায়ী। তাই মানুষের উচিত দায়িত্বশীলভাবে জীবনযাপন করা, ক্ষমতা ও সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। না হলে যেকোনো মুহূর্তেই পতন আসতে পারে।