দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত এখন বড় ধরনের সংকটে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—ঋণপ্রবাহ শুধু কমছেই না, বরং নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির দিকে নেমে গেছে।
গত জুনের তুলনায় জুলাই মাসে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে কোনো প্রবৃদ্ধি হয়নি। বরং তা পাঁচ মাস পর আবারও নেতিবাচক অবস্থায় চলে যায়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এবং গত বছরের জুলাই মাসেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ফলে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনেও।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের অভাব, ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা ও ভুল নীতির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারাও বলছেন, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নতুন বিনিয়োগে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। তারা মনে করেন, এই অবস্থায় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিকভাবে বাড়বে না, বরং আরও কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে মন্দাভাব চলছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাট, যা ব্যাংকগুলোর সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে চালু করা সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এমন প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতির প্রাণশক্তিকে সচল রাখতে হলে সরকারকে দ্রুত কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করা, আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতে অর্থের জোগান বৃদ্ধি করা ছাড়া এই সংকট উত্তরণ সম্ভব নয়। অন্যথায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান উভয়ই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।