ব্যাংক গ্যারান্টিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, স্টিলজাত দ্রব্য, প্লাস্টিক পণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানির আগে বিদেশি ক্রেতা বা প্রতিষ্ঠানসহ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি, এলসি বা অগ্রিম টিটি থাকতে হবে। এছাড়া চুক্তি আইভাস সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করে লিয়েন ব্যাংক থেকে প্রত্যয়ন করতে হবে। যদি ব্যাংকের নাম আইভাসে না থাকে, তবে প্রতিষ্ঠান মূসক ফরম-২.১ ব্যবহার করে ভ্যাট নিবন্ধনের তথ্য হালনাগাদ করবে।
রপ্তানি আদেশপ্রাপ্তির পর আমদানির আগে প্রতি একক পণ্যের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের তালিকা এবং যৌক্তিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটে জমা দিতে হবে। এতে রপ্তানিপণ্যতে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হবে।
আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত পণ্য ৯ মাসের মধ্যে রপ্তানি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি সম্ভব না হলে ভ্যাট কমিশনার সর্বাধিক ৩ মাস সময় বাড়াতে পারবেন। রপ্তানি শেষে সংশ্লিষ্ট দলিলাদি জমা দিলে ভ্যাট কমিশনারেট ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্তের অনুমোদন দেবে। সময়মতো রপ্তানি বা অর্থ প্রত্যাবাসন না হলে ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন করা হবে।
তবে এমএস রড বা বার, এঙ্গেল, এমএস ওয়্যার, প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং, সিমেন্ট, কেবল, পেইন্ট, লুব অয়েল, সব ধরনের জ্বালানি তেল, অফিস সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র, এয়ারকন্ডিশনার, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং পার্টিকেল বোর্ড এই সুবিধার আওতায় থাকবে না।
এনবিআর জানিয়েছে, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ রপ্তানিকারকদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করবে। এতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।