শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

আন্তব্যাংক লেনদেনে সুদের হার আরও বেড়েছে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৮০ পড়া হয়েছে

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে দফায় দফায় নীতি সুদহার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আন্তব্যাংক ঋণ আদান-প্রদানের (কলমানি) সুদহারও। সর্বশেষ গত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার কলমানির সুদহার দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশে উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কলমানিসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রায় দেড় মাস ধরে কলমানি মার্কেটে সুদের হার ১০ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। গত ১৩ নভেম্বর এই সুদহার দুই অঙ্কের ঘর তথা ১০ শতাংশের ওপরে ওঠে। এরপর থেকে ১০ শতাংশের নিচে নামার রেকর্ড নেই। এক বছর আগে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর কলমানিতে সুদহার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। ছয় মাস আগে অর্থাৎ ৩০ জুন ছিল ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারে কলমানি মার্কেটে এক দিনের জন্য ধার নেওয়া টাকার গড় সুদহার উঠেছে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশে। আগের দিন বুধবার ছিল বড়দিনের ছুটি। তার আগের দিন মঙ্গলবার এই সুদহার ছিল ১০ দশমিক ১০ শতাংশ। অপরদিকে, গত বৃহস্পতিবার চার দিনের ধারের ক্ষেত্রে গড় সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সাত দিনের ধারের ক্ষেত্রে এই সুদহার ছিল ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। ১০ দিনের ধারের ক্ষেত্রে ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ আর ১১ দিনের জন্য ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে কলমানিতে বিভিন্ন মেয়াদে ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি টাকা লেনদেন হয় এক দিনের ধার হিসেবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বৃহস্পতিবার এক দিনের জন্য কলমানিতে ৪ হাজার ৩২০ কোটি টাকা লেনদেন হয়, যার সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ১০ দশমিক ১৫। আর সর্বনিম্ন সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এক দিনের ধারের ক্ষেত্রে কলমানিতে গড় সুদহার প্রথম ১০ শতাংশে উন্নীত হয় গত ১৩ নভেম্বর। ওই দিন এই বাজারে এক দিনের জন্য ৩ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।

কয়েকটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে কিছু ব্যাংক তীব্র তারল্যসংকটে রয়েছে। এসব ব্যাংকের সংকট এতটাই প্রকট যে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকাও ফেরত দিতে পারছে না। আবার সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যাংক বেশি লাভের আশায় কলমানির বদলে বিল-বন্ডে অর্থ বিনিয়োগ করছে। ফলে কলমানিতে টাকা ধার দেওয়া ব্যাংকের সংখ্যা কমে গেছে। একসময় বিদেশি ব্যাংকগুলো কলমানিতে বেশি অর্থ ধার দিত। বর্তমানে এই বাজারে বিদেশি ব্যাংকের অংশগ্রহণ একেবারেই নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে জন্য নীতি সুদহার বারবার পরিবর্তন করেছে। এ জন্য আন্তব্যাংক সুদহার বেড়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলে সুদহার কমানো হবে।

গত ২২ অক্টোবর নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ২০২২ সালের মে মাসের পর থেকে ১১ বারের মতো নীতি সুদহার বাড়ানো হয়। নীতি সুদহার বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে অর্থের সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি মনে করে বাজারে অর্থের সরবরাহ বেশি এবং সে কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, তাহলে অর্থপ্রবাহ কমাতে নীতি সুদহার বাড়ানো হয়।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024