শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

পরিবারতত্ত্ব ও পরিবারতন্ত্র রাষ্ট্র বিনির্মাণে সমস্যা কোথায়?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৪৫ পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে ঢাকা বিমানবন্দরে নেমেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার ঘোষণা, আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি হবে একটি পরিবারের মতো। বাংলাদেশের

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে ঢাকা বিমানবন্দরে নেমেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার ঘোষণা, আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি হবে একটি পরিবারের মতো। বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে তার এ পরিবারতত্ত্বটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার বহিঃপ্রকাশ যা জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও সম্প্রীতি আরো বলবৎ করতে মাইক্রোলেভেলে গভীর মনোযোগের দাবি রাখে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাঠামো ও ব্যবস্থাপনার প্রতি তার এক মানবিক ও সহযোগিতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশে পরিবারকেন্দ্রিক দলীয় রাজনীতি ও বিদ্যমান পরিবারতন্ত্র এবং ক্ষমতার ব্যক্তিকেন্দ্রীকরণের বাস্তবতায় এ তত্ত্ব কতটা কার্যকর হতে পারে?

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রকে পরিবার হিসেবে দেখার মনোবৃত্তিকে সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে নতুন কিছু মনে হওয়ার কথা নয়। রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পর্ক সব সময়ই সমাজতত্ত্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। প্রাচীন নগর রাষ্ট্রকে পরিবারের সঙ্গে তুলনা করার তত্ত্ব বিদ্যমান ছিল এবং সমাজতাত্ত্বিকভাবে সেটা নগরায়ণ ও নাগরিক দায়দায়িত্বে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল। প্লেটো ও অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে আধুনিক সমাজতত্ত্ববিদরাও রাষ্ট্র ও পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নানা ভাবনাচিন্তা করেছেন। প্লেটো তার ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে রাষ্ট্রকে একটি বৃহত্তর পরিবারের মতো কল্পনা করেছিলেন, যেখানে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও দায়িত্ব থাকবে। প্রতীকী অর্থে ড. ইউনূসের তত্ত্বে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হবে সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে কাজ করা ও সম্মিলিতভাবে সব মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। একটি আদর্শ পরিবার যেমন সদস্যদের সব প্রয়োজন মেটায় এবং তাদের বিকাশের সুযোগ দেয়, রাষ্ট্রকেও প্রকৃত অর্থে তেমন হতে হবে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন আসে, বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় কাঠামো কি সত্যিই এমন রূপ ধারণ করতে পারবে?

পরিবারের মৌলিক উপাদান হলো ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও একত্রে কাজ করার মনোভাব। পরিবারের মূল নীতি হলো দায়িত্ববোধ, সমতা ও সহযোগিতা। কিন্তু বাস্তবে দুনিয়ার কোনো দেশেই সব পরিবারে সব সময় এ নীতিগুলোর প্রতিফলন দেখা যায় না। এর বদলে দেখা যায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব, বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার। এ সমস্যাগুলো যখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে প্রতিফলিত হয়, তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা হয়ে থাকে পরিবারতন্ত্র বা গোষ্ঠীতন্ত্রের ছত্রছায়ায়। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় শক্তি নির্দিষ্ট কিছু পরিবার বা একদল লোকের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির আগ থেকেই উপমহাদেশে প্রচলিত জমিদার প্রথা ও সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা আমাদের অভ্যস্ত করে তুলেছে পরিবারকেন্দ্রিক শাসন ও শোষণে। পরবর্তী সময়ে প্রচ্ছন্ন রাজতন্ত্রের মতোই বিভিন্নভাবে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থায় এ পরিবারতন্ত্রের উপস্থিতি অনেক বেশি মাত্রায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে রাষ্ট্রকাঠামোসহ জনজীবনের সর্বস্তরে পরিবারতন্ত্র সুশাসন ও ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পরিসীমায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিবারতন্ত্রের নেতিবাচক প্রভাবটা কী? রাষ্ট্রীয় পরিসীমায় পরিবারতন্ত্রের কারণে বাংলাদেশীদের চেয়ে বেশি দুর্ভোগে পৃথিবীর আর কোনো দেশের মানুষ আছে বলে আমি মনে করি না। ছোটবেলায় শুনেছি, উপমহাদেশের বুক চিরে জন্ম নেয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রটিকে শাসন ও শোষণ করেছিল ২২টি পরিবার। তাদের মাত্র দুটো ছিল এ পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ অংশে। পরিবারকেন্দ্রিক আধিপত্যের বিষয়টি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুস্পষ্টরূপে দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলোয় সাংগঠনিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের চর্চা নেই বললেই চলে এবং দলীয় নেতৃত্ব প্রায়ই উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে বণ্টিত হয়। ক্ষমতার এ পরিবারকেন্দ্রিক বিতরণ একদিকে অগণতান্ত্রিক, অন্যদিকে দলের মাঝে নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগকে সংকুচিত করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটতে দেখা যায়। কিছু পরিবার বাণিজ্যিক সেক্টরে আধিপত্য বিস্তার করে। তারা ও তাদের অনুগ্রহভাজনরা গড়ে তোলে সম্পদের পাহাড়। ফলে সমাজে ও রাষ্ট্রে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান ক্রমে বাড়ছে। সামাজিক প্রতিপত্তির ক্ষেত্রেও আমরা সে রকম বিষয় দেখতে পাই। ব্যক্তি মানুষের মাঝে পারিবারিক বন্ধন বা সম্পর্কগুলো সামাজিক উন্নয়নের সহায়ক হলেও কখনো কখনো এগুলো বৈষম্য ও সুযোগের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি তৈরি করে।

বাংলাদেশের সর্বস্তরে ক্ষমতার বৈষম্য ও প্রতীকী পুঁজির আধিপত্য লক্ষণীয়। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী পিয়েরে বুর্দো তার তত্ত্বে বলেছেন, সমাজে কিছু গোষ্ঠী প্রতীকী পুঁজির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোয় তেমনি নেতাদের পরিবারগুলো প্রতীকী পুঁজির (যেমন দলের ঐতিহাসিক ভূমিকা, নেতার কারিশমা বা দলের প্রতি জনসমর্থন) ভিত্তিতে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রকৃতপক্ষে মুজিব ও জিয়ার উত্তরাধিকার তাদের পরিবারের জন্য ক্ষমতার এক অনন্য উৎস তৈরি করেছে। এ প্রতীকী পুঁজি নতুন নেতৃত্বের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেছে। পরিবারতন্ত্রের কারণে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন বা নতুন চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় এবং রাজনৈতিক কাঠামোতে যে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হয়, তা নাগরিকদের জন্য একটি বৈষম্যমূলক সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো তথা ব্যবস্থাপনা তৈরি করে। ফলে একদিকে রাজনীতিতে ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকে না। অন্যদিকে পারিবারিক আনুগত্যের মধ্য দিয়েই সামাজিক স্তরবিন্যাস এবং সর্বক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোয় পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক (পেট্রোন-ক্লায়েন্ট রিলেশন) অত্যন্ত প্রভাবশালী। রাজনীতি ও প্রশাসন, এমনকি সংগঠনগুলো এখানে ক্ষমতাসীন পরিবারগুলোর আশীর্বাদে টিকে থাকে। ফলে দলীয় কর্মীরা ব্যক্তিগত আনুগত্য দেখাতে বাধ্য হন, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে ব্যাহত করে। যথাযথ জনশিক্ষা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অভাবে পরিবারতন্ত্র কেবল রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিণত হয়েছে সামাজিক মনস্তত্ত্বের একটি অংশে। পরিবারে ব্যক্তির শাসন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রেই তাই দলের সাংগঠনিক বিন্যাস বা জাতীয় রাজনৈতিক কাঠামোয় প্রতিফলিত হয়।

আমরা যদি সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রকে পরিবারের মতো পরিচালনা করতে চাই, তাহলে প্রথমে পরিবারতন্ত্র এবং পরিবারের অভ্যন্তরীণ শিক্ষার সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। অন্যদিকে জনজীবনে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব কমানো অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে ক্ষমতার সাম্য নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে আমরা রাষ্ট্রকে একটি আদর্শ পরিবার হিসেবে কল্পনা করতে গেলেই পরিবারের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো চোখে পড়ে। সেসব সমস্যার সমাধান না করে বৃহত্তম পরিবার হিসেবে রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখা বাতুলতা মাত্র।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের দাপট সুস্পষ্ট। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিবারতন্ত্রের প্রভাবে জনজীবনে বহুমুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দলীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিবারতন্ত্রের একটি শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। দুই বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয়তাবাদী দল উভয়ই তাদের দলের নেতৃত্বে পারিবারিক প্রভাবকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিবারিক প্রভাবের কারণে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পথ সংকুচিত হয়েছে। এর পরিণতিতে দুই পরিবারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনীতিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও সংঘাতমুখী করে তুলেছে। ফলে আদর্শিক রাজনীতি কিংবা জনকল্যাণের জায়গায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ক্ষমতাস্বার্থ অধিক গুরুত্ব পেয়েছে।

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ড. ইউনূসের বক্তব্যে রাষ্ট্রকে এমন একটি সামাজিক কাঠামো হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, যেখানে নাগরিকদের প্রতি একটি পরিবারের মতো যত্নশীলতা থাকবে। রাষ্ট্র নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে এবং উন্নয়নের জন্য একটি সুষম ও ন্যায়পরায়ণ কাঠামো তৈরি করবে। তবে এ তত্ত্বের প্রাসঙ্গিকতা তখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, যখন আমরা বাস্তবে পরিবারতন্ত্রের নেতিবাচক প্রভাব দেখতে পাই। রাষ্ট্র যখন একটি নির্দিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় পরিচালিত হয়, তখন এ ধারণা মানবিক মূল্যবোধ হারায় এবং পরিণত হয় শোষণমূলক কাঠামোয়। তাই পরিবারতন্ত্র থেকে সুশাসনের দিকে অগ্রসর হওয়াই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোয় পরিবারতন্ত্রের পরিবর্তে আদর্শিক রাজনীতিকে প্রাধান্য দিতে রাজনৈতিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণকেও তাদের রাজনৈতিক আদর্শ, নেতা ও দল পছন্দে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রকে একটি পরিবার হিসেবে দেখার তত্ত্বে যে আদর্শিক মানবিকতা, সহমর্মিতা, সহাবস্থান, দায়দায়িত্ব পালন, অংশীদারত্ব ও ঐক্যের কথা আছে তা অর্জনের পথে বড় বাধা হলো বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পরিবারতন্ত্রের দাপট। জনজীবনকে পরিবারতন্ত্রের এ দাপট থেকে মুক্তি দিতে না পারলে রাষ্ট্র কখনই পরিবারের মতো মানবিক ও কল্যাণমুখী কাঠামো অর্জন করতে পারবে না। নাগরিকদের সার্বিক ও সামষ্টিক কল্যাণ বিবেচনায় রাষ্ট্র অবশ্যই একটি পরিবার হতে পারে, কিন্তু সেই পরিবারটি গড়ে উঠতে হবে সমতা, ন্যায়বিচারও মানবিকতার ওপর ভিত্তি করে। রাষ্ট্রীয় পরিসীমায় পরিবারের মতো মানুষে মানুষে বন্ধন তখনই কার্যকর হবে, যখন দেশের সরকার ও জনগণের মাঝে একটি শোষণহীন, সহযোগিতামূলক ও কল্যাণমুখী সম্পর্ক তৈরি হবে।

ড. মাহরুফ চৌধুরী: ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024