ঋণের উচ্চ সুদহার দেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বারবার ব্যাংক ঋণে সুদহার বৃদ্ধিতে চরম সংকটে পড়েছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। ফলে ব্যবসার প্রসার ঘটছে না। থমকে আছে বিনিয়োগ। বস্তুত ব্যবসা ও বিনিয়োগে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বেশির ভাগ উদ্যোক্তা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে এখন বিনিয়োগের পরিবেশ নেই; তারা টিকে থাকার লড়াই করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে নীতি সুদহার বৃদ্ধি করায় ব্যাংক ঋণের সুদ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে ঋণের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি এলসি খোলার হার কমেছে। শিল্প উৎপাদনে এর প্রভাব পড়বে।
শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক ব্যবসায়ী। তারা বলছেন, দেশে বিদ্যমান বাস্তবতায় অত্যাবশ্যকীয় নিত্যপণ্য নয় এমন পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। বিনিয়োগ কমে যাওয়া, আমদানি-রপ্তানিতে নিুগতিসহ বিভিন্ন কারণে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। ফলে টান পড়েছে শিল্পোদ্যোক্তাদের আয়ের খাতে।
এদিকে কাঙ্ক্ষিত উপার্জন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো ব্যাংক ঋণের কিস্তি দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। বস্তুত বিগত সরকারের আমল থেকেই দেশের শিল্প খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে দুর্নীতি ও অবকাঠামোগত সংকটের খেসারত দিতে বাধ্য হচ্ছে এ খাত। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প এলাকার বহু কারখানা এ কারণে বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
দেশের বেশির ভাগ উদ্যোক্তা ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন খাতে বাড়তি ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে বহু উদ্যোক্তা এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছেন। তার ওপর ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার অব্যাহত থাকলে শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সুদের হারের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে।
তা না হলে উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান-সর্বত্র এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের উদ্যোক্তারা যাতে অন্যান্য দেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সক্ষম হন, কর্তৃপক্ষকে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। বস্তুত ব্যাংকগুলো বেশি হারে সুদ আরোপ করেই ক্ষান্ত হয় না, পদে পদে সার্ভিস চার্জ আরোপের মাধ্যমে আগ্রাসী আচরণও করে থাকে।
সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এসব দিকেও দৃষ্টি দেওয়া। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়েই ঋণের সুদহার নির্ধারণ করতে হবে।